০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আংটি ও হাতের বালা ব্যবহার।

আংটি ও হাতের বালা ব্যবহার।

এইচ এম গোলাম কিবরিয়া রাকিব।

অলংকার মানুষের রুচিবোধ, ব্যক্তিত্ববোধ, আর্থিক অবস্থা ও জীবনাচারের প্রকাশ ঘটায়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফ্যাশনের এ যুগে অলংকারের নিত্যনতুন ব্যবহারবিধি, রূপ ও পদ্ধতি প্রকাশিত হচ্ছে। ইসলাম বরাবরই সৌন্দর্যবোধকে পছন্দ করে। তবে সব বিষয়েই ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।
তাই  আংটি ও হাতের বালা ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত  নীতিমালা বর্ণনা করা হলো-

আংটির ব্যবহার:
পোশাকের ক্ষেত্রে দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম হলো আংটির ব্যবহার। শরিয়তে আংটি ব্যবহার করা শর্ত সাপেক্ষে বৈধ। যেসব ধাতু কাফেরদের সঙ্গে কিংবা তাদের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশপূর্ণ; যেমন:সিসা, পিতল, কাঁসা ও লোহার আংটি ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য মাকরুহ। পিতল, কাঁসা ইত্যাদি ধাতব কাফিরদের মূর্তি নির্মাণ ও আসবাব নির্মাণের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়।
তাদের অনেকে লোহাকে বিশেষ পূজা-অর্চনায় ব্যবহার করে। (ইসলাম বনাম বিজাতির অনুকরণ, হাকিমুল উম্মত ক্বারী তৈয়্যব সাহেব (রহ:), পৃষ্ঠা ১৭১-১৭)
পুরুষের জন্য দুই শর্তে আংটির ব্যবহার করা জায়েজ। শর্ত এক. রুপার আংটি ব্যবহার করবে।শর্ত দুই. পাঁচ মাশা (৪.৮৬ গ্রাম) থেকে কম হতে হবে।
নারীদের জন্য আংটি ছাড়া যেকোনো ধাতুর অলংকার ব্যবহার করা বৈধ। আংটির ক্ষেত্রে কেবল যেকোনো পরিমাণ সোনা ও রুপা ব্যবহার করা জায়েজ। অন্য ধাতুর আংটির ব্যবহার বৈধ নয়। পুরুষের জন্য সোনার আংটির ব্যবহার নিষিদ্ধ।
(সূত্র : আহসানুল ফাতওয়া, খণ্ড : ৮, পৃষ্ঠা ৬৯-৭০/রদ্দে মুখতার, খণ্ড : ৫, পৃষ্ঠা ২২৯)

তবে অসুস্থতার কারণে বিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে অন্য ধাতুর আংটি ব্যবহার করা যাবে।
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা:) রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক কাজে সিলমোহর হিসেবে রুপার আংটি ব্যবহার করতেন। এতে লেখা ছিল ‘মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’। আংটি প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ:) আবদুল কাদের জিলানি (রহ:) ও ফিকাহবিদদের থেকে নিম্নরূপ অভিমত নকল করেছেন : বাঁ হাতে আংটি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। কেননা এর বিপরীত করা বিদআতি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকদের অভ্যাস।
(ইকতিজাউস সিরাতুল মুস্তাকিম)

হাতের বালা ব্যবহারের বিধান:
বিবাহিত-অবিবাহিত নারীদের জন্য হাতে চুড়ি পরা বৈধ। তবে পুরুষদের জন্য হাতে চুড়ি, বালা, রঙিন সুতা, ব্রেসলেট ব্যবহার করা মাকরুহ। (বেহেশতি জেওর, বিদআত-কুপ্রথা অধ্যায়)।

কারী তৈয়ব (রহ:) বলেন, ‘বর্তমান যুগে শিখ সম্প্রদায় তাদের হাতে একটি চুড়ি তাদের জাতীয় বিশেষ পোশাক হিসেবে ব্যবহার করে।’ (তাশাব্বুহ ফিল ইসলাম) তা ছাড়া পুরুষরা হাতে চুড়ি ও বালা পরিধান করলে তা নারীদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়। আর ইসলামে নারী পুরুষের এবং পুরুষ নারীর সাদৃশ্য হওয়া নিষিদ্ধ।
হাদিস শরিফে বর্নিত হয়েছে , আল্লাহ তায়ালা নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের সাদৃশ্য ও বেশভূষা অবলম্বনকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।
-এইচ এম গোলাম কিবরিয়া রাকিব।
প্রতিষ্ঠাতা-মাওলানা আবদুল হাকিম (রহ:) ফাউন্ডেশন,খতিব ও টিভি প্রোগ্রাম উপস্থাপক।

Tag :
About Author Information

শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ গ্রামের জাতীয়তাবাদীদল বিএনপি’র নেতা আটক;জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়

আংটি ও হাতের বালা ব্যবহার।

Update Time : ০৬:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

আংটি ও হাতের বালা ব্যবহার।

এইচ এম গোলাম কিবরিয়া রাকিব।

অলংকার মানুষের রুচিবোধ, ব্যক্তিত্ববোধ, আর্থিক অবস্থা ও জীবনাচারের প্রকাশ ঘটায়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফ্যাশনের এ যুগে অলংকারের নিত্যনতুন ব্যবহারবিধি, রূপ ও পদ্ধতি প্রকাশিত হচ্ছে। ইসলাম বরাবরই সৌন্দর্যবোধকে পছন্দ করে। তবে সব বিষয়েই ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।
তাই  আংটি ও হাতের বালা ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত  নীতিমালা বর্ণনা করা হলো-

আংটির ব্যবহার:
পোশাকের ক্ষেত্রে দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম হলো আংটির ব্যবহার। শরিয়তে আংটি ব্যবহার করা শর্ত সাপেক্ষে বৈধ। যেসব ধাতু কাফেরদের সঙ্গে কিংবা তাদের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশপূর্ণ; যেমন:সিসা, পিতল, কাঁসা ও লোহার আংটি ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য মাকরুহ। পিতল, কাঁসা ইত্যাদি ধাতব কাফিরদের মূর্তি নির্মাণ ও আসবাব নির্মাণের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়।
তাদের অনেকে লোহাকে বিশেষ পূজা-অর্চনায় ব্যবহার করে। (ইসলাম বনাম বিজাতির অনুকরণ, হাকিমুল উম্মত ক্বারী তৈয়্যব সাহেব (রহ:), পৃষ্ঠা ১৭১-১৭)
পুরুষের জন্য দুই শর্তে আংটির ব্যবহার করা জায়েজ। শর্ত এক. রুপার আংটি ব্যবহার করবে।শর্ত দুই. পাঁচ মাশা (৪.৮৬ গ্রাম) থেকে কম হতে হবে।
নারীদের জন্য আংটি ছাড়া যেকোনো ধাতুর অলংকার ব্যবহার করা বৈধ। আংটির ক্ষেত্রে কেবল যেকোনো পরিমাণ সোনা ও রুপা ব্যবহার করা জায়েজ। অন্য ধাতুর আংটির ব্যবহার বৈধ নয়। পুরুষের জন্য সোনার আংটির ব্যবহার নিষিদ্ধ।
(সূত্র : আহসানুল ফাতওয়া, খণ্ড : ৮, পৃষ্ঠা ৬৯-৭০/রদ্দে মুখতার, খণ্ড : ৫, পৃষ্ঠা ২২৯)

তবে অসুস্থতার কারণে বিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে অন্য ধাতুর আংটি ব্যবহার করা যাবে।
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা:) রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক কাজে সিলমোহর হিসেবে রুপার আংটি ব্যবহার করতেন। এতে লেখা ছিল ‘মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’। আংটি প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ:) আবদুল কাদের জিলানি (রহ:) ও ফিকাহবিদদের থেকে নিম্নরূপ অভিমত নকল করেছেন : বাঁ হাতে আংটি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। কেননা এর বিপরীত করা বিদআতি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকদের অভ্যাস।
(ইকতিজাউস সিরাতুল মুস্তাকিম)

হাতের বালা ব্যবহারের বিধান:
বিবাহিত-অবিবাহিত নারীদের জন্য হাতে চুড়ি পরা বৈধ। তবে পুরুষদের জন্য হাতে চুড়ি, বালা, রঙিন সুতা, ব্রেসলেট ব্যবহার করা মাকরুহ। (বেহেশতি জেওর, বিদআত-কুপ্রথা অধ্যায়)।

কারী তৈয়ব (রহ:) বলেন, ‘বর্তমান যুগে শিখ সম্প্রদায় তাদের হাতে একটি চুড়ি তাদের জাতীয় বিশেষ পোশাক হিসেবে ব্যবহার করে।’ (তাশাব্বুহ ফিল ইসলাম) তা ছাড়া পুরুষরা হাতে চুড়ি ও বালা পরিধান করলে তা নারীদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়। আর ইসলামে নারী পুরুষের এবং পুরুষ নারীর সাদৃশ্য হওয়া নিষিদ্ধ।
হাদিস শরিফে বর্নিত হয়েছে , আল্লাহ তায়ালা নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের সাদৃশ্য ও বেশভূষা অবলম্বনকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।
-এইচ এম গোলাম কিবরিয়া রাকিব।
প্রতিষ্ঠাতা-মাওলানা আবদুল হাকিম (রহ:) ফাউন্ডেশন,খতিব ও টিভি প্রোগ্রাম উপস্থাপক।