০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিআইজি ও সাংবাদিকের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডিতে অপপ্রচারের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

মো:হাসান; বান্দরবান প্রতিনিধি:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমান এবং দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের প্রধান খায়রুল আলম রফিকের ছবি ব্যবহার করে “দৈনিক বাংলাদেশ” নামের একটি ভুয়া আইডি খুলে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া আইডিটি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ময়মনসিংহের ভালুকা ও বরিশাল বিভাগের সম্ভাব্য সংযোগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ তদন্ত টিম কাজ শুরু করেছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট সাহানা সাহানু বলেন, “কোনো ব্যক্তির ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো একটি গুরুতর সাইবার অপরাধ। এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য। রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন জাতীয় দৈনিকের প্রকাশক-সম্পাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত মানহানি নয়, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।”
সাংবাদিক সমাজও এই ঘটনায় গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতা ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো মানে পুরো সাংবাদিক সমাজকে অপমান করা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিক নেতারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর অপরাধ, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ ও কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।

Tag :
About Author Information

শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ গ্রামের জাতীয়তাবাদীদল বিএনপি’র নেতা আটক;জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়

ডিআইজি ও সাংবাদিকের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডিতে অপপ্রচারের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

Update Time : ০৫:০৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

মো:হাসান; বান্দরবান প্রতিনিধি:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমান এবং দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের প্রধান খায়রুল আলম রফিকের ছবি ব্যবহার করে “দৈনিক বাংলাদেশ” নামের একটি ভুয়া আইডি খুলে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া আইডিটি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ময়মনসিংহের ভালুকা ও বরিশাল বিভাগের সম্ভাব্য সংযোগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ তদন্ত টিম কাজ শুরু করেছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট সাহানা সাহানু বলেন, “কোনো ব্যক্তির ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো একটি গুরুতর সাইবার অপরাধ। এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য। রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন জাতীয় দৈনিকের প্রকাশক-সম্পাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত মানহানি নয়, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।”
সাংবাদিক সমাজও এই ঘটনায় গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা বলেন, একজন সাংবাদিক নেতা ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো মানে পুরো সাংবাদিক সমাজকে অপমান করা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিক নেতারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর অপরাধ, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ ও কার্যকর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।