
বাঁচার জন্য বিধ্বস্ত গাড়ীতে ছটফট করছিলেন বাবা-মা ও সন্তানেরা
–নিজস্ব প্রতিবেদক:
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলার পদুয়ার বাজার ইউটার্ণ। সিমেন্টবাহী একটি লরী ঢাকামূখী যাচ্ছে। উল্টো দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারকে পাশ কাটাতে গিয়ে উল্টে যায়। এতে প্রাইভেটকার ও পাশে থাকা একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয় লরীটি। এ সময় লরী চাপায় প্রইভেটকারে থাকা একই পরিবারেরর ৪ জন অন্তত দশ মিনিট ধরে বাঁচাও বাঁচাও করছিলো। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে প্রানন্তকর চেষ্টা করলেও লরীটি সরাতে পারেন নি। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন, জেলার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৭৫), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে আবুল হাশেম (৪৫) ও ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪০)। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন বড় ছেলে আবুল হাশেম। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
এ সময় লরী চাপায় সিএনজির তিনজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তাৎক্ষনিক তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী বিল্লাল হোসেন জানান, লরীটি যখন প্রাইভেটকারটি চাপা দেয় তখন জোরে একটি আওয়াজ হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি চাপা পরা প্রাইভেটকারটির ভেতর থেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিলেন তারা। আমরা কয়েকজন লরীটিকে সরানোর জন্য চেষ্টা করি। সিমেন্টবোঝাই হওয়ায় আমরা এক ইঞ্চিও সরাতে পারিনি লরীটি। দশ মিনিটের মধ্যে প্রাইভেটকারটি ভেতর থেকে আর কোন আওয়াজ বের হয়নি। তখন আমরা বুঝে গেলাম তারা মারা গেছেন।
কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। ফায়ার সার্ভিসকেও ফোন করা হয়। দুইটি রেকারের সাহায্য আমরা দুর্ঘটনা কবলিত লরী, প্রাইভেটকার ও সিএনজিকে উদ্ধার করি। পরে চারজনের মরদেহ এবং দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়িগুলোসহ থানায় নিয়ে আসি। আইননানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী দুই লেনে অন্তত ১৫ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, ফোর লাইন হওয়ার পর এই ইউটার্ণটি মরণফাঁদ হয়ে আছে। গত ১১ বছরে এই ইউটার্ণে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৬ জন মারা গেছে।
জামায়াত নেতা অধ্যাপক
শফিকুল হেলালের শোক:
এদিকে, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে সিমেন্ট বাহি লরির নিচে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের একই পরিবারের চার যাত্রী নিহত ও তিন যাত্রী আহত
হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনিত কুমিল্লা-৮ বরুড়া আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল আলম হেলাল।
শোকবাণীতে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), তাঁর বড় ছেলে আবুল হাশেম (৫০) ও আবুল কাশেম (৪৫) নিহত হয়েছে। এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় জানমালের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবার নয়। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন। আমি তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমি নিহতদের শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে নিহতদের উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 














